বাংলাদেশে নতুন করে কর আরোপের ক্ষেত্রে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। হঠাৎ করে ভ্যাট বা কর আরোপ করলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই আলোচনার মাধ্যমে কর আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আজ বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁওয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের আয়োজনে করনীতি কাঠামো নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, করের প্রভাব যেন পণ্যের দামের ওপর কম পড়ে, সেজন্য আলোচনার মাধ্যমে কর আরোপ করা প্রয়োজন। এজন্য ছোট ছোট মিটিং হতে পারে। এনবিআর এরই মধ্যে বিভিন্ন পণ্যের ভ্যাট কমিয়েছে।
লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, এনবিআরের নিজস্ব গবেষণা শাখা থাকা দরকার। এর মাধ্যমে তারা লাভের হার মাথায় রেখে রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, সামনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, তাই সে অনুযায়ী রাজস্ব নীতি প্রয়োজন। আমাদের কর হার হতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো। ২৫ শতাংশ বলা হলেও এখানে কর হার ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীষা আব্রাহাম বলেন, কর আরোপের ক্ষেত্রে এখানে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কোনো প্রক্রিয়া নেই। গত ৭ মাসে আমাদের ৯ শতাংশ কর বেড়েছে। এতে আমাদের ওপর চাপ বাড়ছে। করদাতা হিসেবে আমরা আলোচনার সুযোগ চাই। কিছু খাতে ভ্যাট কমানো হয়েছে, আমরাও এমন সুযোগ চাই।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, অন্য যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআর এখন ভালো কাজ করছে। তারা বেসরকারি খাতের কথা শুনছে। কিছু সিদ্ধান্ত থেকেও এনবিআর সরে এসেছে। তবে উন্নত দেশের মতো আমাদের এখানে সিদ্ধান্তের আগে আলোচনা হয় না। সিদ্ধান্ত নেয়ার পর শুরু হয় দাবির কথা। থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়াতেও আলোচনা হয়। আমাদের এখানেও এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, সাম্প্রতিক ভ্যাট আরোপ করা নিয়ে আলোচনা হয়নি, এটা সত্যি। এটার পেছনে অনেক ব্যাপার ছিল। তবে আলোচনা ছাড়া হওয়া উচিত না, এটা আমারো মনে হয়। আসলে আমাদের মতো দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে। অনেক সময় এখানে পলিসি দিয়ে সবকিছু হয় না।